নাগরিকত্ব বিল নিয়ে সৌরভ গাঙ্গুলির মেয়ের বিস্ফোরক পোস্ট

সংশোধিত নাগরিকত্ব আইনের বিরুদ্ধে ভারতজুড়ে ব্যাপক বিক্ষোভ-প্রতিবাদ চলছে

0
ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডে প্রেসিডেন্ট এবং সাবেক ক্রিকেটার সৌরভ গাঙ্গুলির মেয়ের সানা গাঙ্গুলি

সিটিএনবি ডেস্কঃ বিতর্কিত নাগরিক সংশোধন বিল নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকার, বিজেপি এবং সংঘ পরিবারকে কটাক্ষ করে ইন্সটা পোস্ট করেছে সৌরভ গাঙ্গুলির মেয়ে সানা গাঙ্গুলি। সংশোধিত নাগরিকত্ব আইনের বিরুদ্ধে ভারতজুড়ে ব্যাপক বিক্ষোভ-প্রতিবাদ চলছে। বিক্ষোভ চলছে পশ্চিমবঙ্গেও। কোথাও কোথাও তা সহিংসতায়ও রূপ নিয়েছে। আর এই অবস্থার মধ্যে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডে প্রেসিডেন্ট এবং সাবেক ক্রিকেটার সৌরভ গাঙ্গুলির মেয়ের এমন পোস্ট রীতিমতো সাড়া ফেলে দিয়েছে।
আনন্দবাজারের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইনস্টাগ্রাম স্টোরি হিসেবে পোস্ট করতে গিয়ে তিনি ২০০৩ সালে প্রকাশিত খুশবন্ত সিংহের ‘দ্য এন্ড অব ইন্ডিয়া’কে বেছে নিয়েছেন।

সানা সেই বই থেকে তুলে ধরেছেন যে অংশ, সেখানে লেখা হয়েছে, প্রতিটা ফ্যাসিস্ট সরকারের একটা দল বা গোষ্ঠীর প্রয়োজন হয়। নিজেদের বেড়ে ওঠার জন্য তারা ওই দল বা গোষ্ঠীগুলিকে ব্যবহার করতে তাদের শয়তানেও পরিণত করে। দু’একটা দল দিয়ে এটা শুরু হয়। কিন্তু সেটা কখনওই সেখানে শেষ হয় না। ঘৃণার উপর নির্ভর করে যে আন্দোলন, সেই আন্দোলন নিজেকে ধরে রাখতে পারে অবিরাম একটা ভয় বা দ্বন্দ্বের বাতাবরণ তৈরি করে।

আসলে এই পোস্টে সানা নিজের কোনো মন্তব্য করেননি। সম্পূর্ণটাই খুশবন্ত সিংহের লেখা থেকে উদ্ধৃত করেছেন।

ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডে প্রেসিডেন্ট এবং সাবেক ক্রিকেটার সৌরভ গাঙ্গুলির মেয়ের সানা গাঙ্গুলি

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের বরাতে আনন্দবাজার বলছে, সানা এই উদ্ধৃতির মাধ্যমে আসলে বিজেপি এবং সঙ্ঘ পরিবারকেই নিশানা করতে চেয়েছেন।

এখানেই থেমে থাকেননি সানা। খুশবন্তের লেখার আরও কিছু অংশ তিনি পোস্ট করেছেন। সেই অংশে লেখা হয়েছে, আজ যারা আমরা নিজেদের নিরাপদ মনে করছি, ভাবছি আমরা তো মুসলমান বা খ্রিস্টান নই, তারা মূর্খের স্বর্গে বাস করছি। সঙ্ঘ ইতিমধ্যেই বামপন্থী ইতিহাসবিদ এবং পশ্চিমি সংস্কৃতিতে বিশ্বাসী যুবসমাজকে টার্গেট করেছে। কাল তাদের ঘৃণা গিয়ে পড়বে স্কার্ট পরিহিত মহিলা, যারা মাংস খান, মদ্যপান করেন, বিদেশি সিনেমা দেখেন, বছর বছর তীর্থে যান না, দাঁতনের পরিবর্তে টুথপেস্ট ব্যবহার করেন, আয়ুর্বেদিকের বদলে অ্যালোপ্যাথি ওষুধ পছন্দ করেন, দেখা হলে ‘জয় শ্রী রাম’ বলার বদলে হাত মেলান বা চুম্বন করেন, তাদের উপর। কেউ নিরাপদ নয়। ভারতকে বাঁচাতে হলে এগুলি আমাদের ভীষণ ভাবে অনুধাবন করতে হবে।

নেট দুনিয়ায় ইতিমধ্যেই সানার এই পোস্ট নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হচ্ছে। তাদের একটা অংশের মতে, গোটা পোস্টটাতে যে ভাবে খুশবন্তের লেখার মাধ্যমে সানা ভারতের বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরেছেন, তা প্রশংসনীয়। কেউ কেউ আবার বলছেন, রাজনীতি বোঝার মতো যথেষ্ট বয়স তার হয়নি। বিরোধীতাকারীদের জবাবে আবার অনেকেই বলছেন, সানার বয়স ১৮ পেরিয়েছে। আর ভারতে ১৮ বছর বয়স হলেই একজন ব্যক্তি ভোট দিতে পারেন।