দিল্লির জামিয়া বিশ্ববিদ্যালয় গুলিবিদ্ধ ৩ আহত অর্ধশত

ভারতে বিক্ষোভে গুলি চালানোর কথা পুরোপুরি অস্বীকার করেছে পুলিশ,এ নিয়ে দেশজুড়ে শুরু হয়েছে বিতর্ক।

0

সিটিএনবি ডেস্কঃ সংশোধিত নাগরিকত্ব আইনের প্রতিবাদে দিল্লির জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে হওয়া বিক্ষোভ এবং শিক্ষার্থী-পুলিশ সংঘর্ষের ঘটনায় ৩ জন বিক্ষোভকারী গুলিবিদ্ধ ও অর্ধশত অহত।

তবে বিক্ষোভে গুলি চালানোর কথা পুরোপুরি অস্বীকার করেছে পুলিশ। এ নিয়ে দেশজুড়ে শুরু হয়েছে বিতর্ক।রোববারের ওই সংঘর্ষের ঘটনায় বহু শিক্ষার্থী ও পুলিশ সদস্য আহত হন। দিল্লির সফদরজং সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের দু’জনের গায়ে গুলির ক্ষত থাকার বিষয়ে নিশ্চিত করেছেন হাসপাতালের মেডিক্যাল সুপারিনটেনডেন্ট। দু’জনেই বর্তমানে শংকামুক্ত রয়েছেন।

এনডিটিভি জানায়, ভর্তি হওয়া ওই দুই শিক্ষার্থীর মধ্যে একজন জামিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বিএ শিক্ষার্থী ২২ বছর বয়সী আজাজ। তিনি আহত হয়ে সফদরজং হাসপাতালের জেনারেল ওয়ার্ডে ভর্তি হন।

আজাজের পরিবারের অভিযোগ, রোববার সন্ধ্যায় তার বুকে গুলি লেগেছিল। অথচ বিক্ষোভে তার কোনো ভূমিকাই ছিল না।

এ ঘটনায় পুলিশ গুলির বিষয়টি এড়িয়ে ক্ষতের জন্য অন্য নানারকম অজুহাত দিয়ে শেষমেশ বলেছে, এগুলো টিয়ারশেলের আঘাত। কিন্তু আজাজ আহত হওয়ার কয়েক মুহূর্ত পরের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে, যেখানে তার ধারেকাছে টিয়ারগ্যাসের কোনো চিহ্ন দেখা যায়নি।

দর্শণার্থীদের প্রবেশ নিয়ন্ত্রণে তার ওয়ার্ডের বাইরে দু’জন পুলিশ সদস্যকে মোতায়েন করা হয়েছে।অন্যদিকে সফদরজং হাসপাতালে ভর্তি করা আরেকজন শিক্ষার্থীর নাম শোয়ায়েব খান। পুলিশের প্রাথমিক দাবি ছিল, ২৩ বছর বয়সী এই তরুণের পায়ে ‘ধারালো তক্তার আঘাত’ লেগেছে। পরে পুলিশ জানায়, এটি আসলে টিয়ারশেলের আঘাত ছিল।

সংঘর্ষের আরেকটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। দিল্লির হলি ফ্যামিলি হাসপাতালে ধারণ করা ওই ভিডিওচিত্রে গুলি লেগে ভর্তি হওয়া আরেক শিক্ষার্থী, মোহাম্মদ তামিনকে দেখা গেছে তার উরুতে গুলির আঘাতসহ।

তার মেডিক্যাল রিপোর্ট পরীক্ষা করে এনডিটিভি জানায়, সেখানে ‘বাম পায়ে গুলির আঘাত’ লাগার বিষয়টি লেখা হয়েছে।নাগরিকত্ব (সংশোধনী) আইন-২০১৯’র প্রতিবাদে প্রায় এক সপ্তাহ আগে বিক্ষোভ শুরু হয়েছিল আসাম, মেঘালয় আর ত্রিপুরায়। আইনটির বিরুদ্ধে রোববার রাতে দিল্লির জামিয়া মিলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের সময় পুলিশের সঙ্গে ব্যাপক সংঘর্ষ হলে সোমবার বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে সারাদেশে।

বিক্ষোভে একাত্মতা জানিয়ে প্রতিবাদ জানায় বিভিন্ন রাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও অমিত শাহর কুশপুত্তলিকাও দাহ করে বিক্ষুদ্ধ শিক্ষার্থীরা। বিক্ষোভের মুখে তামিলনাড়ু বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

এই বিক্ষোভ-সহিংসতার জন্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে দায়ী করেছেন কংগ্রেস সভাপতি সোনিয়া গান্ধী।সোমবার এক বিবৃতিতে কংগ্রেস সভাপতি সোনিয়া গান্ধী বলেন, মোদি সরকার গণতন্ত্র ও ভারতের জনগণের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছে।