সিলেটে চাকুরী হারাচ্ছেন সূর্যের হাসি ক্লিনিকের দুই শতাধিক কর্মী

0
সিলেটের ১৮ টি সহ দেশের ১৫৮টি ক্লিনিক বন্ধ করতে চাচ্ছে সূর্যের হাসি নেটওয়ার্ক
সিলেটের ১৮ টি সহ দেশের ১৫৮টি ক্লিনিক বন্ধ করতে চাচ্ছে সূর্যের হাসি নেটওয়ার্ক

সিটিএনবিঃ বাংলাদেশের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা দিয়েছেন করোনা ভাইরাসের প্রতিকূলতায় চাকরীরত কোন কর্মচারীকে চাকরিচ্যুত করা যাবে না।সেখানে মাননীয় প্রধান মন্ত্রীর আদেশ অমান্য করে ১৫৮ টি ক্লিনিকের কয়েক হাজার কর্মীর চাকরী কেড়ে নিচ্ছে সূর্যের হাসি নেটওয়ার্ক।ক্লিনিক বন্ধের কার্যক্রম যখন শেষ পর্যায় তখন ক্লিনিক মৌখিকভাবে ক্লিনিক ব্যবস্থাপকদের ক্লিনিকের সকল বিষয় হস্তান্তর করার জন্য নির্দেশনা দেয়া হয়। কি কারনে বা কেন ক্লিনিকগুলো বন্ধ করে দেয়া হচ্ছে এই বিষয়ে কোন প্রশ্ন করলে রিজিওন অফিসের কর্মকর্তারা বিষটি এড়িয়ে যান এবং মুখে তালা দিয়ে রাখেন।একদিকে করোনা বিপর্যয়,অন্যদিকে বেকারত্ব ।এই দুই অভিশাপে জর্জরিত ও দিশেহারা চিহ্নিত করা সিলেট বিভাগের ১৮ টি ক্লিনিক সহ সারাদেশের ১৫৮ টি ক্লিনিকের কর্মীবৃন্দ।
আবার একদিকে হাজার হাজার কর্মী চাকরী হারাবে অপরদিকে ৩ কোটির ও অধিক সাধারন জনগণ স্বল্প মূল্যে মা ও শিশু স্বাস্থ্য সেবা ,পরিবার পরিকল্পনা সেবা ও ই পি আই ইত্যাদি থেকে বঞ্চিত হবে।

সূর্যের হাসি নেটওয়ার্কের লুটপাটকারী দানবদের কবল গ্রাসে বন্ধ হতে যাচ্ছে সিলেট রিজিয়নের আটারোটি ক্লিনিক সহ সারাদেশের মোট ১৫৮ টি সূর্যের হাসি ক্লিনিক এনজিও এবং কর্ম এলাকার জনগন ও ক্লিনিকের কর্মীদের সমন্বয়ে তিলতিল করে গড়ে তুলা সূর্যের হাসি ফাউন্ডেশন। সূর্যের হাসি নেটওয়ার্ক নামের বিষধর সাপ করেছে তা দংশন।


সারাবিশ্ব তথা বাংলাদেশের মানুষ মরন ঘাতক মহামারী করোনা ভাইরাসের কারনে গৃহবন্ধী,প্রতিটা মুহূর্ত যখন মানুষ বাঁচার জন্য লরাই করছে সময়ের সাথে টিক সেই মুহূর্তে দেশের এই দুর্দিনে করোনা ভাইরাসের মতো সূর্যের হাসি নেটওয়ার্কের ঊর্ধ্বতন কতৃপক্ষ সিলেট বিভাগের ১৮ টি ক্লিনিকসহ দেশের ১৫৮ টি ক্লিনিক বন্ধ করে দেওয়ার ঘোষণা দেয় ।এমতাবস্থায় সূর্যের হাসি নেটওয়ার্কের অধীনস্ত ক্লিনিক গুলো বন্ধ করে দেয়া হলে প্রায় ২ হাজার এর অধিক নারীপুরুষ বেকার হয়ে পরবেন, সেই সাথে তাদের পরিবার দরিদ্রতার চরম স্বীকার হবে। যেখানে রয়েছেন প্রায় ৮০% ই নারী কর্মী

জানা গেছে দাতা সংস্থা USAID এর অর্থায়নে সূর্যের হাসি ক্লিনিক ১৯৯৭ সাল থেকে দেশের ৬৪ জেলায় ৩৯৯ টি ক্লিনিক নিয়ে সরকারের সংযোগী সংস্থা হিসেবে প্রায় ৩ কোটি মানুষকে স্বাস্থ্য সেবা প্রদান করে আসছে।কিন্তু ২০১৮ সাল থেকে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার কাছ থেকে দায়িত্ব ছিনিয়ে নেয় সূর্যের হাসি নেটওয়ার্ক।এরপর অনেক দক্ষ কর্মচারীবৃন্দকে চাকরিচ্যুত করার মধ্য দিয়ে ৩৯৯ টি ক্লিনিকের মধ্য থেকে ৩৬৯ টি ক্লিনিক হস্থগত করার মাধ্যমে সূর্যের হাসি নেটওয়ার্ক দায়িত্ব গ্রহন করে।শুরুতে নেটওয়ার্ক, সকল স্টাফকে চাকুরী স্থায়ীকরন সহ প্রভিডেন্ট ফান্ড, গ্র্যাচুইটি , স্বাস্থ্য বীমা ইত্যাদির প্রলোভন দেখিয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের মাধ্যমে কোম্পানিতে রূপান্তরিতয় করে।২০১৮ সালে সূর্যের হাসি নেটওয়ার্ক নামক কোম্পানী ক্লিনিক গুলোর দায়িত্ব পালন করে ২০১৮ -২০২২ সাল পর্যন্ত আকাশ কুসুম প্রতিশ্রতি দিয়ে খন্ডকালীন নিয়োগপত্র প্রদান করে,নিয়োগ পত্রে কখন ও ১১ মাস ,কখন ৩ মাস আবার কখন ১ মাস সময় দেয়া হয়।

এই নিয়ে মোট ৩ বার নিয়োগ পত্র প্রদান করা হয়। দ্বিতীয় পর্যায়ে সবার অগোচরে কর্মসূচি টেকসই করার নামে স্থায়ীভাবে বন্ধ করে দেয়া হয় আরো ৭৬ টি ক্লিনিক।বর্তমানে করোনা ভাইরাসের মহামারীতে মানুষ যখন গৃহবন্ধী গনপরিবহন বন্ধ,মানুষ যখন রাস্তায় বের হতে পারছে না ,ঠিক তখনই ১৫৮ টি ক্লিনিক একসাথে বন্ধ দেয়ার সিদ্ধান্ত জানানো হয় সাথে করে কোন কর্মকর্তা কর্মচারীরা তাদের অধিকার আদায়ের দাবী নিয়ে কোনো আন্দোলন না করতে পারে,সেই বিষটি লক্ষ্য রেখে মুখ্যম সময়টাকে বেঁচে নেয়া হয়েছে।প্রতিটি ক্লিনিকের মাসি আয়ের পরিমানের লক্ষ্যমাত্রা দ্বিগুণ করার জন্য উপর মহল থেকে বিভিন্ন ধরনের চাপ সৃষ্টি করা হয়। যেখানে মা ও শিশুকে স্বল্প মূল্যে চিকিৎসা দেয়ার কথা অথচ আজ সেখানে চড়া মূল্যে সেবা দিতে বাধ্য করা হয় কর্মীদের।

সেই চাপ সামলাতে গিয়ে ক্লিনিক ব্যবস্থাপক থেকে শুরু করে ক্লিনার পর্যন্ত রাত-দিন পরিশ্রম করে,মাথার ঘাম পায়ে ফেলে জীবন জীবিকার একমাত্র সম্বল চাকুরী যেন না হারাতে হয়,তাই সূর্যের হাসি নেটওয়ার্কের কবলে পরা অসহায় কর্মীরা নেটওয়ার্কের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অন্যায় অবদার মুখ বুঝে সহ্য করে গেছে।

কালবৈশাখির প্রচণ্ড ঘুর্ণিঝড়ে যেন সূর্যের হাসি নেটওয়ার্কের ক্লিনিকগুলো ভেঙ্গে না পরে কোনো কর্মীকে যেন চাকরী হারাতে না হয়, এবং সাধারন জনগণ যেন তাদের স্বল্প মূল্যের সেবা থেকে বঞ্চিত না হয়। প্রত্যেকটা বিষয় বিবেচনা করার জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে আকুল আবেদন জানাচ্ছেন সূর্যের হাসি নেটওয়ার্কের অধীনস্ত ,বন্ধ করে দেওয়া ক্লিনিকগুলোর অসহায় কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ।

রোববার (১০ মে) সকলের পক্ষে আবেদনটি করেন সূর্যের হাসি ক্লিনিক (এস.এইচ. এন-৩০৬) এর ক্লিনিক ম্যানেজার সুচন্দা দাস।

সুচন্দা দাস সিলেট সিটিএনবিকে বলেন, কর্তৃপক্ষ বাজেটের অজুহাত দেখিয়ে ক্লিনিকগুলো বন্ধ করে দিতে চাচ্ছে। ইতোমধ্যে ৭০টির অধিক ক্লিনিক তারা বন্ধ করে দিয়েছে। এতে সিলেটেরও ২টি আছে। অথচ চুক্তি অনুযায়ী তারা আগামী ২০২২ সাল পর্যন্ত চালানোর কথা। হঠাৎ করে ক্লিনিকগুলো বন্ধ করে দিলে আমরা কর্মীরা পরিবার পরিজন নিয়ে না খেয়ে মরতে হবে। চুক্তির শর্ত ভঙ্গ করে কর্তৃপক্ষ যে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তা অন্যায়। এজন্য প্রতিষ্ঠানগুলো যাতে বন্ধ করতে না পারেন এজন্য আমরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ চেয়ে আবেদন করেছি। প্রয়োজনে হাই কোর্টে রিট করা হবে বলেও জানান তিনি।

সংবাদটি সম্পর্কে মন্তব্য করুন নিছের বক্সেঃ শেয়ার করে সবাইকে দেখার সুযোগ দিনঃ