স্মৃতির ডায়রীতে মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মন্তাজ আলী

0
স্মৃতির ডায়রীতে মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মন্তাজ আলী
সিলেট সদর উপজেলার, বৃহত্তর দশগ্রামের, রত্নগর্ভা সন্তান, যুদ্ধাহত, বীর মুক্তিযোদ্ধা, মরহুম, কমান্ডার মন্তাজ আলী

স্মৃতির ডায়রীতে মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মন্তাজ আলী

রফিকুল ইসলাম মামুনঃ- সিলেট সদর উপজেলার, বৃহত্তর দশগ্রামের, রত্নগর্ভা সন্তান, যুদ্ধাহত, বীর মুক্তিযোদ্ধা, মরহুম, কমান্ডার মন্তাজ আলী। ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর সাথে লড়াই করে বিশ্বের মানচিত্রে স্বাধীন সার্বভৌমত্ব একটি লাল সবুজের পতাকাকে বিজয়ী করে আনতে যারা জীবন বাজি রেখে যুদ্ধ করেছেন, তাদের মধ্যে অন্যতম বীর সেনানী, যুদ্ধাহত, মুক্তিযোদ্ধা, বৃহত্তর দশগ্রামের রত্নগর্ভা সন্তান, মরহুম কমান্ডার মন্তাজ আলী সাহেব, যাকে আমরা অনেকেই কমান্ডার বলে চিনতাম, মোগলগাঁও ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের নোয়াগাঁও, ইলামেরগাঁও গ্রামের মরহুম হাজি সোনা মিয়ার একনিষ্ট সন্তান।

তিনি এবং আমার মরহুম পিতা আব্দুর রহিম লালা মিয়া একসাথে লেখাপড়া করেছেন, উনারা আমানতপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পঞ্চম শ্রেণী পর্যন্ত পড়ালেখা শেষ করে ছাতক বহুমুখী উচ্চবিদ্যালয়ে ক্লাস টেন পর্যন্ত লেখাপড়া করে থাকেন, তিনি আমাকে যখনি পেতেন তখনি আব্বুর খোঁজখবর নিতেন।

মরহুম কমান্ডার মন্তাজ আলী মামাকে অনেক কাছ থেকে সৌভাগ্য হয়েছে উনি ছিলেন একজন স্পষ্টবাদি, যাকে যেটা বলার সরাসরি বলে ফেলতেন, মুক্তিযুদ্ধের অনেক গল্প উনার কাছ থেকে শুনেছি, এলাকার সবার খোঁজখবর রাখতেন, বৃহত্তর দশগ্রামের প্রতিটি উন্নয়ন মূলক কাজের সাথে উনার সম্পর্ক ছিলো নিবিড়ভাবে।

তিনি ছিলেন বৃহত্তর দশগ্রামের একজন জনপ্রিয় শালিস ব্যাক্তিত্ব, কাউকে কোনকিছু বলতে গেলে ঘুরিয়ে পিছিয়ে না বলে সরাসরি বলে ফেলতেন, এবং অনেকেই উনার কথাবার্তা শুনতে আগ্রহী ছিলেন, উনি সবাইকে হাসাতে পারতেন, চলাফেরা করার সময় উনার হাতে একটা গল্লা বা লাঠি থাকতো উনি প্রায়ই বলতেন তেড়েং বেড়েং করলে গল্লা লাগিয়ে দিবো।

মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী এই বীর সেনানী আমৃত্যু এলাকার সার্বিক উন্নয়নে, মানুষের কল্যাণে কাজ করে গিয়েছেন, আমাকে খুববেশি আদর স্নেহ করতেন এবং লেখাপড়ার ব্যাপারে খোঁজখবর নিতেন, শেষ বয়সে আমাদের দশগ্রাম উচ্চবিদ্যালয় প্রতিষ্টায় উনার বিশেষ অবদান রহিয়াছে, প্রতিষ্টাকালিন শিক্ষক আমিও ছিলাম তিনি প্রায়ই বিদ্যালয়ে আসতেন লেখাপড়ার খবর নিতেন অনেক সময় ক্লাসে ঢুকে ছাত্র/ছাত্রীদের বিভিন্ন বিষয়ে প্রশ্ন করতেন।

সাংসারিক জীবনে উনি আট সন্তানের জনক, পাঁচজন পুত্র সন্তান ও তিনজন কন্যা সন্তান রহিয়াছেন উনারা তিনজনা বিবাহিতা,

পুত্র সন্তানের মধ্যে উনার বড় ছেলে আাসাদুজ্জামান আসাদ ভাই ইন্টারমিডিয়েট পাশ করে ইতালীতে চলে যান এবং বর্তমানে স্বপরিবারে স্থায়ীভাবে সেখানে বসবাস করছেন, আসাদ ভাই সেখান থেকে এলাকার খোঁজখবর রাখেন, বিপদে আপদে অনেককে নিরবে নিভৃতে দান খয়রাত করে থাকেন।


উনার দ্বিতীয় ছেলে আশরাফুজ্জামান আশাই নামে খ্যাত আমার একান্ত প্রিয়, আশাই ইতালীতে স্থায়ীভাবে বসবাস করেন, প্রায়ই প্রতিবছর দেশে আসেন খেলাধুলার প্রতি রয়েছে অধির আগ্রহ বিশেষ করে একজন ক্রিকেট খেলোয়াড় ও ক্রিকেট প্রেমিক যাকে বলা যায়, সবার সাথে সূ-সম্পর্ক রহিয়াছে সে ও সাধ্যানুযায়ী অনেককে দান খয়রাত করে থাকে, সমাজের প্রতিটি ভাল কাজের সাথে তার সম্পৃক্ততা রহিয়াছে।


তৃতীয় ছেলে ছাদুজ্জামান ছাদ সৌদিআরব প্রবাসী সে ও খুব হাস্যরস্য কৌতুহলি জীবনের অধিকারি তার কথা শুনলে অনেকের হাঁসি পায়।চতুর্থ ছেলে আহমদুজ্জামান একেবারে ছোটবেলা ইটালি চলে যায় এবং সেখানের স্থায়ী বাসিন্দা হিসাবে রয়েছে।পঞ্চম ছেলে ইসহাকুজ্জামান ইসহাক দেশে থাকেন এবং লেখাপড়ায় নিয়োজিত রহিয়াছে, তার আচার, আচরণ, কথাবার্তায় উত্তম চরিত্রের অধিকারি।

মহান মুক্তিযুদ্ধের এই বীর সেনানী ছিলেন একজন বিশাল প্রতিভার অধিকারি জীবন চরিত্রের গড়া মানুষ, উনার জীবন স্মৃতির ডায়রীতে অনেক কিছু নিহিতার্থ কিন্তু আমি অধম যতটুকু পেরেছি লিখেছি বাদবাকি যদি কোনদিন হায়াতে সময় পাই পরিপূর্ণ লিখার চেষ্টা করবো মহান আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা আমাদের সকলের প্রিয় মরহুম কমান্ডার মন্তাজ আলী সাহেবকে জান্নাতের সু উচ্চ মাকামের বাসিন্দা হিসাবে কবুল করুন, আমিন।

লেখকঃ রফিকুল ইসলাম মামুন।
              সাংবাদিক,
              সাবেক মেম্বার, ১নং ওয়ার্ড, মোগলগাঁও ইউ/পি, সদর-সিলেট।

শেয়ার করুণঃ