একুশ শতকের পৃথিবী-মানুষ ও মহাবিশ্বের সৃষ্টি রহস্য

0
জ্ঞান মানুষ ও মহাবিশ্বের সৃষ্টি রহস্য
একুশ শতকের পৃথিবী,মানুষ ও মহাবিশ্বের সৃষ্টি রহস্য

একুশ শতকের পৃথিবী,মানুষ ও মহাবিশ্বের সৃষ্টি রহস্য

গোলজার আহমদ হেলালঃ ০১(এক) মানব সভ্যতার ইতিহাস অনেক পুরনো।জ্ঞান-বিজ্ঞান,শিল্প-সাহিত্য-সংস্কৃতি ও প্রযুক্তির বিকাশমান ধারা অব্যাহত আছে সৃষ্টির সুচনা কাল থেকেই।আমরা দেখেছি এ পৃথিবী কখনো বীর প্রসবিনী, কখনও বা অনন্ত যৌবনা চির কৌতুকময়ী এক দুরন্ত কন্যা,আবার কখনো রুপলাবণ্যে, ধনে-মানে বিপুল গৌরবে এ জগতকে করেছে বিমোহিত। কখনো মহামারী প্লেগ,কখনও বা বানভাসী বন্যা কিংবা আগ্নেয়গিরির অগ্নুৎপাত গ্রাস করতে উদ্যত হয়েছে,লণ্ডভণ্ড করেছে মানুষের জীবন,ক্ষত-বিক্ষত করেছে এ ধরা।

যদি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ কিংবা চিন্তা-গবেষণা করি তাহলে এই মহাবিশ্বের সকল সৃষ্টি এক অপার বিস্ময়। আসমান যমীনের মধ্যে যা কিছু আছে কোনটিই অনর্থক সৃষ্টি করা হয় নি।ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র আ্যামিবা প্রোটিয়াস কিংবা অতি আণুবীক্ষণিক অকোষীয় রোগ সৃষ্টিকারী বস্তু ভাইরাস থেকে শুরু করে বৃহদাকার নীল তিমি,উপকারী ও হিংস্র জীবজন্তু, কিংবা আলো থেকে শুরু করে অনবরত সম্প্রসারণশীল মহাবিশ্ব’র গ্রহ-নক্ষত্র, তারকারাজি, মহাজাগতিকরশ্মি, ছায়াপথ, নীহারিকা, সাগর -মহাসাগর, নদী-নালা,খাল-বিল, পাহাড়-পর্বত,বৃক্ষ,লতা,মাটি,পানি,বায়ু,আগুন,প্রাকৃতিক সম্পদ সহ প্রতিটি বস্তু এমন কি প্রতিটি ধুলিক্ণা সহ সকল কিছুই কারণ ব্যতীত অকারণে সৃষ্টি হয় নি।এগুলো মানুষের কল্যাণের জন্য এবং প্রকৃতিকে ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থায় রাখতে সর্বদা নিয়োজিত রয়েছে।

০২(দুই)

এই পৃথিবী কত না সুন্দর।অপরূপ প্রকৃতি, নানা প্রকার ফুল,ফল,পাখি -পতঙ্গ,সবুজ সুন্দর ডালপালা আরো কত কি।যাদের সৌন্দর্যে আমাদেরকে বিমোহিত করে তুলে প্রতিদিন।সুশীতল দক্ষিণা সমীরণ, সুগভীর গর্জনশীল সাগর সমুহ,সারি সারি ঢেউয়ের মিছিল,সাগরের ঐ রুপালী ঢেউয়ের ছন্দ,জোয়ারভাটা পরস্পরা, সুবিস্তৃত অথৈ নোনা জলরাশি যা বাষ্পীভবন হয়ে মেঘের ভেলা তৈরী করে আর বৈদ্যুতিক গর্জনের মাধ্যমে নাইট্রোজেন সমৃদ্ধ হয়ে মিষ্টি পানির বৃষ্টিতে ভরিয়ে দেয়।জমিনে জন্মায় আদিগন্ত মাঠভরা ফসল আর কাদি কাদি থোকা থোকা ফলের বাগান।তৈরী করে পিঁপড়া থেকে হাতি পর্যন্ত প্রতিটি মাখলুকের খাদ্যের সমাহার।

আমাদের চোখের সামনে তারকাখচিত সুনীল ঝলমলে আকাশ। কে কেন সৃষ্টি করেছেন? ঐ সুবিশাল আকাশ যার সুনীল শামিয়ানার নিচে আমরা মহাজাগতিক হামলা থেকে নিরাপদ। কত বিশাল এই মহাজগত আমরা কি ধারনা করতে পারি। আমাদের পৃথিবীর পরিধি ৫১কোটি বর্গ কি.মি।পৃথিবীর তুলনায় ১৩ লক্ষ গুণ বড় সুর্য।ছোট বড় ৯ টি গ্রহ এবং ৪৮ টি উপগ্রুহ নিয়ে আমাদের সৌরজগত তথা সুর্যকেন্দ্রিক পরিবার।আমাদের সুর্যের নিকটতম নক্ষত্রের নাম আলফা সেঞ্চুরি যার দুরতব সুর্য থেকে ৪.৩৫ লাইট ইয়ার।

আমাদের গ্যালাক্সি মিল্কীওয়ে তে আছে ৪০ হাজার কোটি নক্ষত্র। এর সবচাইতে বড়টি ইটাকারিন।আকৃতিতে সুর্যের তুলনায় ২০০ গুণ বড়।আর এ মহাবিশ্বএ আছে এরকম শত কোটি গ্যালাক্সি।
ধারণা করা হয় মহাবিশ্ব’র বিস্তৃতি প্রায় ২০,০০০বিলিয়ন আলোকবর্ষ। অর্থাৎ ২০,০০০১০০০০০০০০৩৬৫২৪৬০৬০১৮৬০০০০মেইল।দানবীয় একটি সংখ্যা। এখানেই শেষ নয়।এই মহাবিশ্ব সম্প্রসারণশীল।এর আয়তন ক্রমাগত বাড়ছেই।
ভাবতে অবাক লাগে, আলো গতিবেগ সেকেন্ডে ১৮৬০০০ মাইল।এ গতিবেগে আলো চললে চাদে যেতে সময় লাগে মাত্র দেড় সেকেন্ড, আট মিনিটে সুর্যে আলো চলে যায়।নিকটতম গ্যালাক্সির নক্ষত্র লুব্ধকে পৌছতে সময় লাগে ২২৪০০০ বছর।সীমাহীন বিশ্বব্রহ্মাণ্ড কত যে বিশাল।

গননার অতীত গ্রহ নক্ষত্র তারকাপুঞ্জ যাদের আমরা রাতের আকাশে ঝিকিমিকি করতে দেখি তাদের প্রত্যেকেরঈ আলাদা আলাদা কক্ষপথ আছে।আছে সুনির্দিষ্ট সময়সীমা যার ব্যতিক্রম আজো দেখা যায় নি।আসমান ও যমিনের প্রতিটি সৃষ্টি মহান আল্লাহর পবিত্রতা বর্নণা করছে।সবাই আল্লাহর বান্দাহ।সকলের মাঝে আল্লাহর আইন জারী আছে।এমন কি মানবদেহ ও তার অংগ প্রত্যঙ্গ ও আল্লাহর নির্দেশ প্রতিপালন করছে।সৃষ্টির আদি থেকে অন্ত পর্যন্ত সকল সৃষ্টির ধর্ম ইসলাম।প্রতিটি জিনিস জন্মগত ভাবে মুসলিম।বলা হয়ে থাকে ইসলাম ফিতরাতি ধর্ম।বিশ্বজনীন স্বভাবজাত সহজাত ধর্ম।

আমাদের আছে নয়নকাড়া পাগলকরা হাজারো রং্যের ফুলের বাগান,সুক্ষাতিসুক্ষ্ম নকশার গুল্ম লতা,আকাশ ছোয়া বৃক্ষের অরণ্য আমাজান,যার ছায়া দেয় সুস্থি,ফুল ফসল দেয় তৃপ্তি ও তুষ্টি।জীবনচক্র দেয় তাপ ও বিষাক্ত গ্যাস থেকে মুক্তি।জীবাশ্ম দেয় তেল নামক তরল সোনা।একটি মাত্র উদ্ভিদের জীবনচক্র ও খাদ্য শৃংখলের যে রুপ জটিল সুক্ষ্মতা আছে তা আজ অবধি আবিষ্কৃত মানবীয় যন্ত্রে পাওয়া যায় নি।

এই পৃথিবীর ৭১ ভাগ পানি প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষা করছে।এন্টার্কটিকার যদি বরফ সব গেলে যেত তাহলে অনেক আগেই আমরা ৭০হাত পানির নিচে চলে যেতাম।একবারে স্টারফিস সাগরে ১২ কোটি ডিম পারে।এর প্রজনন প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রিত না হলে তিন চার বছরে সমস্ত সাগর ভরে যেত স্টারফিসে।সৃষ্টির জন্ম,প্রজনন,খাদ্য আর মৃত্যুর এই সুনিপুণ ভারসাম্য। কে করেছে?

খেয়াল করুন ২৫০০০ মাইল পরিধির পৃথিবীর সর্বত্র ক্ষুদ্র মৌমাছিগুলো একই নিয়মে একই মাপের বাসা তৈরী করছে।বিশ্বব্যাপী ছড়ানো এই প্রাণী গুলোর এই একই ধরনের জ্ঞান, জ্ঞানের উতস কি?

০৩(তিন)

বিস্ময়কর পৃথিবী।কত না সুন্দর প্রাকৃতিক ভারসাম্য। কবি বলেছেন,মরিতে চাহিনা আমি সুন্দর ভুবনে।মানবেরে মাঝে আমি বাচিবার চাই।অথচ আমরা অবাধেই বৃক্ষ নিধন করছি,পাহাড় ধ্বংস করছি,নদী নালা ও খাল-বিল ভরাট করছি, বন ধ্বংস করছি,বন্যা প্রানী হত্যা করছি,নিজেদের মনের মত স্বপ্ন সৌধ বিশালাকার অট্রালিকা নির্মাণ করছি।বিশাল বিশাল পাওয়ার প্লান্ট, শিল্প-কারখানা প্রতিষ্ঠা করে পানি ও বায়ু দুষিত করছি,বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অপব্যবহার করে পারমাণবিক বোমা ও নিউক্লিওয়ার অস্ত্র তৈরী করে মানবতা বিধ্বংসী কাজ করছি।বিরানভূমি করছি সবুজ এ যমীন কে।অথচ র যমীনকে আল্লাহতালা মানবজাতির জন্য বিছানা সবরুপ দিয়েছেন -আল কুরআন সেটাই বলছে।

অনেক আগেই পৃথিবীতে পরিবেশ ও মানবিক বিপর্যয় ঘটেছে।প্রথম বিশ্ব যুদ্ধে ৮৫ লক্ষ লোক ও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে শুধু জাপানের হিরোশিমা শহরে পরমাণু বোমার আঘাতে ৭৫ হাজার লোক প্রাণ হারায়।তথাকথিত সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে প্রতিদিন পৃথিবীর আনাচে কানাচে বোমার আঘাতে মুসলিম নিধন ও হত্যাযজ্ঞ চলছে।জৈব রাসায়নিক মারণাস্ত্র তৈরী করে বিশ্বশাসনের নতুন ফন্দী আটছে বিশব শাসক মোড়লরা।তদুপরি খাদ্যে ভেজাল ও বিষ প্রয়োগ করে প্রতিনিয়ত মানবহত্যার মহোৎসব চলছে।

অনেক আগেই কবি বলেছিলেন,হে পৃথিবী।তুমি নিরাময় হও।রোগাক্রান্ত, জীর্ণ -শীর্ণ পৃথিবী যখন বিপর্যয়ের মুখে পতিত হয়।তখনই আল্লাহর ফায়সালা অনুসারে প্রাকৃতিক ভাবে হোক বা মানবসৃষ্ট উপায়ে হোক প্রকৃতি তার ভারসাম্য ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করে।

অতীত ইতিহাস সাক্ষী , ফিলিস্তিন ও ইসরাইল কেন্দ্রিক প্রাচীন সভ্যতা যার উতসভুমি মধ্যপ্রাচ্য সেই হিব্রু সভ্যতাও টিকে থাকতে পারে নি।জাতিগত ভাবে হিব্রুরা ছিল মিশ্র জাতি।যুদ্ধবিগ্রহ, কুটনীতি,স্থাপত্য এবং চিত্রকলার দিক থেকে ইতিহাসে খুব অল্প ভুমিকা থাকলেও নৈতিকতা ও ধর্মীয়ে ক্ষেত্রে বিশ্বসভ্যতায় হিব্রুদের অবস্থান ছিল যুগান্তকারী। বিশ্বের অন্যতম সমৃদ্ধ সভ্যতা গ্রীক সভ্যতা,রোমান সভ্যতা,পারস্য সভ্যতা,বাইজাইন্টাইন সভ্যতা,সিরিয়া,প্যালেস্টাইন, মেসোপটেমিয়া, দজলা,ফোরাত ও সিনাই উপত্যকা কেন্দ্রিক সেমেটিক জাতির আরব সভ্যতা,খ্রীস্টের ৪/৫ হাজার বছর আগে সিন্ধু নদীর তীরে গড়ে উঠা সুবিন্যস্ত শাসন ব্যবস্থা সম্বলিত সিন্ধু সভ্যতাও টিকতে পারে নি।প্রকৃতির সেই নিয়মেই আজকে পাশ্চাত্য সভ্যতার পতন হবে।গড়ে উঠবে নতুন সভ্যতা ও সংস্কৃতি।

বিজ্ঞান খুব দ্রুত অগ্রগতি লাভ করছে।আজ যা কল্পনা, কাল তা বাস্তব হচ্ছে।সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে বিজ্ঞানের উন্নতি হচ্ছে দ্রুতগতিতে।নতুন সব প্রযুক্তি আসছে।আগামী ২০৫০ সাল পর্যন্ত বিজ্ঞান বিশ্ববাসীকে কি উপহার দিতে পারে তারই একটি তালিকা প্রকাশ করেছে টাইম ম্যাগাজিন। আজ থেকে ২০ বছর আগে টাইম ম্যাগাজিনে প্রকাশিত তালিকার মধ্যে ছিল ভিডিও ক্যামেরা সমৃদ্ধ মোবাইল ফোন,ভিডিও ভ্যাকেশন পোস্ট কার্ড,ইন্টারনেটের সাহায্যে সং্যুক্ত সক্রিয় কণ্টাক্ট লেন্স,শীততাপ নিয়ন্ত্রিত কাপড়, স্যাটেলাইট সুবিধা সমেত কম্পিউটার ও রাডার সমৃদ্ধ গাড়ী, গৃহপালিত রোবট, সকল রোগের জেনেটিক উতস,হলোগ্রাফিক টেলিফোন, মংগল গ্রহে মানুষের যাত্রা,ঘন্টায় ৯০০ কি.মি.গতিবেগ সম্পন্ন বিমান,মাতৃগর্ভ ছাড়াই ইনকিউবেটরে মানব শিশুর জন্ম,মানব মস্তিষ্ক ও কম্পিউটারের মাঝে সরাসরি কানেকশন, সচল কৃত্রিম পা ও চক্ষু,মহাশুন্য পাড়ি দিতে মানব শীত নিদ্রা, ম্যানো প্রযুক্তির মাধ্যমে এক রোবট থেকে একাধিক রোবট সৃষ্টি,আণবিক ফিউশনের মাধ্যমে বিদ্যুৎ উতপাদন,মংগল গ্রহে স্থায়ী আবাস সহ মানুষের গড় আয়ু ৭৮ থেকে ১৪০ বছরে উন্নীত হবে।এ ধরনের পরিকল্পনার অনেক কিছুই মানব জাতি ইতোমধ্যে অর্জন করে ফেলেছে।

আজ প্রযুক্তির উন্নয়ন হচ্ছে রকেটের গতিতে।আর মানবীয় চরিত্র ও ভালবাসার পতন হচ্ছে উল্কার গতিতে। আজ আকাশ ছোয়া অট্রালিকা হচ্ছে কিন্তু কোন ঘরেই মানসিক প্রশান্তি নেই।মংগল গ্রহের সাথে যোগাযোগ হচ্ছে কিন্তু নিজের প্রতিবেশী ও স্বজনদের সাথে যোগা্যোগ নাই।তাই প্রযুক্তির উন্নয়ন হচ্ছে যেমন ব্যাপকহারে,পাল্লা দিয়ে তেমনি হতাশা, অশান্তি,হত্যা আর আত্মহত্যার হারও বাড়ছে।

খোদ সভ্যতার একক দাবীদার আমেরিকায় প্রতি ৪৩ সেকেন্ডে ৪৬ জন নারী ধর্ষিত হয়।সেখানে ৪৩ শতকরা ভাগের বেশী মানুষ জারজ সন্তান।সোনার হরিণের সে দেশে প্রতিবছর আত্মহত্যার চেষ্টা করে ৭ লক্ষ ৩০ হাজার জন।যারা নিরস্ত্রীকরণ এর বুলি আওড়ায় সেখানে স্কুলগুলোতে ২১ ভাগ ছাত্র-ছাত্রী অস্ত্র নিয়ে ক্লাসে আসে।সন্ত্রাসের এক ভয়াল ও বিভীষিকাময় জনপদ সেটা।সমকামিতার সংস্কৃতির প্রচারধর্মী সে পাশ্চাত্যরীতি আজ ধবংসের মুখে।পতনের পথে।মৃত্যুর দুয়ারে।মৃত্যুঘন্টা বেজে উঠা ছাড়া মানব মুক্তির আর কোন পথ নেই।

০৪(চার)

গেল শতাব্দীর শেষ প্রান্তে এসে সমাজতান্ত্রিক সাম্রাজ্যবাদের কেন্দ্রবিন্দু সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের মধ্য দিয়ে দ্বি মেরুবিশিষ্ট বিশ্বব্যবস্থা ভেংগে পড়ে।পুঁজিবাদী ব্যবস্থার জয়জয়কার শুরু হয়।আমেরিকা নয়া বিশব ব্যবস্থার ভারকেন্দ্র হিসেবে আবির্ভূত হয়।স্নায়ুযুদ্ধ পুর্বে সোভিয়েত সমাজতান্ত্রিক বলয়ের বিরুদ্ধে পুঁজিবাদী দুনিয়ার যুদ্ধের বড় একটা অস্ত্র ছিল গণতন্ত্র, মানবাধিকার স্বাধীনতা এবং কল্যাণ মুলক অর্থনীতির শঠতার প্রলেপ।পশ্চিমের রাজতন্ত্র পুঁজিবাদী এককেন্দ্রিক কর্তৃত্ব এবং নিষ্ঠুর সংরক্ষনবাদীতার ঘেরাটোপে বন্দী হয়ে যায়।বিশবের সব অঞ্চল এবং জাতিগোষ্ঠীর জন্য সুষম অর্থনীতি প্রবর্তনের ক্ষমতা ও ইচ্ছা কোনটাই তাদের নাই।ইহা মানবিক মুল্যবোধ বর্জিত কারুনী অর্থনীতির পশুবাদের ধারনায় নিজেদের গুটিয়ে নিয়েছে।স্নায়ুযুদ্ধ অবস্থানের পরবর্তী অধ্যায় এককেন্দ্রিক বিশবব্যবস্থার বিশব পরিস্থিতিতে মার্কিনযুক্তরাষ্ট্র ও তার ধনাঢ্য সহযোগী তৃতীয় বিশবের দরিদ্র লোকদের সাহায্য প্রবাহ সংকুচিত করে দেয়।পাশাপাশি বিশ্বায়নের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় দরিদ্র বিশবের উপর বিশ্বব্যাংক, এডিবি,আইএমএফ দাতাগোষ্ঠী অর্থনৈতিক সংস্কারের নামে সাম্রাজ্যবাদী লুন্ঠনের নগ্ন শর্ত আরোপ করেছে।ব্যবসা বাণিজ্য, সেবাখাত,শিল্পায়ন নিয়ন্ত্রণ, প্রাকৃতিক সম্পদ আহরণ এমন কি প্রশাসন, পুলিশ, রাজনীতি ও সামরিক বিভাগ পর্যন্ত সবখানে পশ্চিমের সাম্রাজ্যবাদী প্রভুদের তাঁবেদারি চলছে।অপরদিকে জ্ঞান বিজ্ঞানের সমস্ত উতস পাশ্চাত্যদের হাতে তুলে দেয়া হয়।ফলে ইউরোপীয় চিন্তাধারা ও আমেরিকান ভাবধারায় লালিত শিক্ষা তরুণ সমাজকে বিপথগামী করছে।
সত্য অতীত থেকে বঞ্চিত হয় পৃথিবীবাসী।নিকট অতীতে মুসলিম শাসনকালে বিদ্যা শিক্ষার তীর্থভুমি ইরাকের বাগদাদ নগরী, জ্ঞান বিজ্ঞানের শহর স্পেনের কর্ডোভা নগরীর শিক্ষা আর গবেষণা গ্রহণ করে ইউরোপীয় রা মানুষ হয়েছে।তারা সুবিধামত ইতিহাস রচনা করে আজ আমাদেরকে ছবক দিচ্ছে।

চীন একটি সম্ভাবনাময় রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে বিশ্বে আবির্ভূত হতে যাচ্ছে।বিজ্ঞান,শিল্প,সাহিত্য,সংস্কৃতি, প্রযুক্তি ও ব্যবসার অভুতপুর্ব উন্নয়নের পাশাপাশি সামরিক ক্ষমতাধর একটি অর্থনৈতিক সমৃদ্ধশালী রাষ্ট্রে পরিণত করেছে নিজেকে।১৫০কোটি মানুষের জনবহুল এ দেশে 5G প্রযুক্তির ব্যবহার ও ২৫ লক্ষ সেনাবাহিনীর টীম নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে।চরম জাতীয়তাবাদী ও ধর্মবিদ্বেষী মনোভাব সম্পন্ন সমাজতান্ত্রিক এ রাষ্ট্র দীর্ঘদিন থেকে ধনতান্ত্রিক পুঁজিবাদী পাশ্চাত্য সমাজের বিরুদ্ধে লড়ছে।বিশ্বে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা ও ব্যবসা বাণিজ্যের প্রচারে সকলেই তার বন্ধু আবার সকলেই তার শত্রু নীতিতে বিশ্বাসী। গণতন্ত্র ও গণমাধ্যম বৈরী এদেশের একচোখা নীতি তাবৎ দুনিয়াকে কল্যাণ দিতে পারবে না।তবে তাদের নিজস্ব কৃষ্টি,কালচার ও নিজস্ব তৈরী আইটি প্রডাক্ট ব্যবহার করে চীন প্রযুক্তিতে শীর্ষে অবস্থান করছে।নকল সুর্য,নকল চাঁদ,নিউক্লিয়ার এনার্জি প্লান্ট ও কৃত্রিম বৃষ্টি ইত্যাদি বিশ্ববাসীকে দানবীয় দাজ্জালীয় দর্শন ও শক্তিকে স্মরণ করিয়ে দেয়।

মধ্যপ্রাচ্যের বিষফোঁড়া ইসরাইলও কিন্তু চীনের চেয়ে কম নয়।১৯১৭ সালে ব্রিটিশরা তুরস্কের কাছ থেকে ফিলিস্তিন অধিকার কেড়ে নেয়।তারা বেলফোর ঘোষণার মাধ্যমে ফিলিস্তিনে একটি ইহুদী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ঘোষণা প্রতিশ্রুতি দেয়।আরবরা তাতে বাধা দিলে বিষয়টি জাতিসংঘে উথাপিত হয়।জাতিসংঘ ফিলিস্তিন কে একটি আরব এবং একটি ইহুদী রাষ্ট্রে বিভক্ত করে দুটি রাষ্ট্র স্থাপনের মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করে।অবশেষে ২য় বিশ্বযুদ্ধ্ব্বে ইইহুদী নির্যাতনের পরিপ্রেক্ষিতে ১৯৪৮ সালের ১৪ মে ইসরাইল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হয়।

ঐ দিন রাত ১২ টা পর্যন্ত বৃটেনের অসিগিরির মেয়াদ ছিল ফিলিস্তিনে।তখন ওয়াশিংটন সময় সকাল ৬টা।এর এক মিনিট পরেই ইসরাইল কে স্বাধীন রাষ্ট্র ঘোষণা করে ইহুদী নেতা বেনগিরি।এর ১০ মিনিট পরেই ৬ টা ১১মিনিটে আমেরিকা ইসরাইল কে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান করে।ষড়যন্ত্র ও চক্রান্ত করে জাতিসংঘ যাতে অসিগিরি না পায় ইহুদী আমেরিকার যোগসাজশে তা করে নেয়।জানা যায়,ইহুদীরা স্থায়ী আবাসভুমির জন্য ফিলিস্তিনে জায়গা দিতে প্রথমেই তুর্কী খেলাফতের দ্বারস্থ হয়েছিল।বিনিময়ে অর্থনৈতিক সংকট নিরসনে তারা তুর্কী খেলাফত কে সহায়তা করার কথা বলে।উসমানীয়া খেলাফতের সুলতান আব্দুল হামিদ সে সুযোগ তাদের দেন নি।ফলে ইহুদী এবং ইংরেজরা ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়।তারা আরব জাতীয়তাবাদের ধুয়া তুলে আরবদের ক্ষেপিয়ে আরব-তুরস্ক সম্পর্ক বিনষ্ট করে।খেলাফত ব্যবস্থা ধ্বংস করতে মরিয়া হয়ে উঠে।অপরদিকে প্রথম ও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ এ তারা পেছনে পেছনে ক্রীড়ানক হিসেবে কাজ করে।সম্পুর্ন আর্থিক সুবিধা দিয়েই বৃটেনের কাছ থেকে বেলফোর ঘোষণার মাধ্যমে সমর্থন কেড়ে নেয়।আজ সারা বিশ্বে জায়নবাদী গোষ্ঠী চক্রান্ত করছে।তাদের প্রটোকল অনুসারে গুপ্ত সংস্থার মাধ্যমে কাজ করে যাচ্ছে।তারা চায় বৃহত্তর ইসরাইল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা। গোটা আরব ও মধ্যপ্রাচ্য কেড়ে নিতে চায়।আরব বিশবের অস্থিরতা ও মধ্যপ্রাচ্যের টানাপোড়ন এর জন্য তারাই দায়ী।

সারা দুনিয়ার ৮২ শতাংশ সম্পদ মাত্র ১ শতাংশ মানুষের হাতে।ইহুদী কয়েকটি পরিবারই সারা দুনিয়ার সম্পদ নিয়ন্ত্রণ করছে।ইসরাইল বিজ্ঞান,শিল্প,সাহিত্য, সংস্কৃতি, কৃষি, ব্যবসা ও আইটি সমৃদ্ধ একটি দেশ।সামরিক শক্তিতেও পিছিয়ে নেই।সম্পদ ও ক্ষমতার প্রতিপত্তি অর্জনের লড়াই তারা প্রতিনিয়ত করছে।বিশবের অনেক বড় বড় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও মিডিয়াগুলো তাদের দখলে।

সম্পদ ও সাংবাদিকতা তারা জন্মলগ্ন থেকেই নিয়ন্ত্রণ করে আসছে।পৃথিবীর ইনফরমেশন টেকনোলোজি কে পুরোপুরিভাবে করায়ত্ত তারা করতে চায়।মিডিয়া, কমিউনিকেশন ও কম্পিউটারে তারা খুব পারদর্শী। তাদের প্রতি হাজারে ১২০ জন বিজ্ঞানী। দেশের প্রত্যেক নারী পুরুষ ও সন্তানদের বাধ্যতামূলক সামরিক প্রশিক্ষণ গ্রহণ করতে হয়।জানা গেছে,আধুনিক কমিউনিকেশন এর সকল প্রতিষ্টানের সদর দপ্তর আমেরিকাতে হলেও এর গবেষণাগারগুলো ইসরাইলে অবস্থিত।তারা আমেরিকার কাধে বন্দুক রেখে বিশ্বের শাসন ক্ষমতার দখল নিতে চায়।বনী ইসরাইলের লাল গাভীর মত মহাজাগতিক শক্তি দাজ্জালের পুজা অর্চনার one world government এর মুল হোতা কি তারাই?

০৫(পাচ)

New World Order এর ধ্বজাধারীরা One World Govt.প্রতিষ্ঠার জন্য একুশ শতককেই (agenda 21)বেছে নিয়েছে।একুশ শতকের চ্যালেঞ্জ হল দুটিঃ

একঃবিজ্ঞান ও প্রযুক্তির ব্যাপক উন্নয়ন সত্ত্বেও মারামারি ও হানাহানিতে পৃথিবী ধ্বংস হবে।চলমান সভ্যতা ও সংস্কৃতি বিনষ্ট হবে।

দুইঃবিজ্ঞানের আশীর্বাদ ভিত্তিক এক নয়া সভ্যতা ও নতুন বিশ্বব্যাবস্থা গড়ে উঠবে।

এটাই বাস্তবতা। কিন্তু বিশ্বায়নের সাম্রাজ্যবাদী চলমান সংস্করণ মানব নির্যাতন ও আগ্রাসনের বিরুদ্ধে দাঁড়াবার মতো কোন শক্তি নির্যাতিত বিশ্ববাসীর আছে কি?
ভোগবাদী জায়নবাদী মার্কিনযুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক সভ্যতার বিপরীতে কে আছে নতুনভাবে বিশ্বসভ্যতা কে গড়ে তুলবে?

আমরা জানি,ইসলাম হল একটি বিশ্বজনীন ব্যবস্থা।মহান আল্লাহ তায়ালার মনোনীত একমাত্র জীবন বাবস্থা।ইহা পৃথিবীর সকল মানুষের,সকল জাতিগোষ্ঠীর এবং সকল সৃষ্টির।একক কোন ব্যাক্তি বা বস্তুর জন্য নয়।আল কুরআন মানব জাতির জন্য সুস্পষ্ট সাবধান বাণী। বিশ্বমানবতার পথ নির্দেশনা ও গোটা সৃষ্টিলোকের যাবতীয় ব্যবস্থাপনা এখানে বর্ণিত আছে।
গভীর ভাবে লক্ষ্য করলে দেখা যায়,সৃষ্টিজগতে অর্থাৎ আসমান ও জমীনের সব জায়গায় সকল প্রাণীকুল ও সকল সৃষ্টির মাঝে আল্লাহর আইন আপনা আপনি জারি আছে।তথায় স্বয়ং আল্লাহ তার দ্বীন কে প্রতিষ্ঠিত করেছেন স্বয়ংক্রিয় ভাবে।এমন কি আমাদের মানবদেহেও।কিন্তু মানব সমাজে তার সে দ্বীন কে জারি করার জন্য মানব জাতিকে দায়িত্ব দিয়েছেন।এ সমাজে ইনসাফ ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য আল্লাহ এক নিয়ম নির্ধারণ করে দিয়েছেন।যা কিতাবে সুস্পষ্ট ভাবে লিখিত আছে।

আমরা বিশ্বাস করি, গোটা বিশ্বলোকের রাজত্ব এর মালিক আল্লাহ নিজেই।তিনি কাউকে রাজত্ব দেন,আবার ইচ্ছা হলে কেড়ে নেন।কাউকে তিনি চাইলে সম্মান দেন,চাইলে অপমানিত করেন।এ ক্ষমতা ও এখতিয়ার তার আছে।অর্থাৎ বিশ্বজগতের বিশবনেতৃত্বের মুল চাবিকাঠি তার হাতেই।ক্ষমতার পালাবদল কিংবা নেতৃত্বের পরিবর্তনে আল্লাহতালার হাত ও ভুমিকা শতভাগ। এটা সময়ের উত্থান ও পতন মাত্র।

পৃথিবীর ব্যবস্থাপনা অক্ষুণ্ণ রাখার জন্য আল্লাহ বিভিন্ন সময় বিভিন্ন মানবগোষ্ঠী ও দলকে নির্দিষ্ট সময়সীমা পর্যন্ত ক্ষমতা ও রাজত্ব করতে দেন।মানুষ ক্ষমতা পেলে ফিতনা ফাসাদ ছড়ায়, ফসল নষ্ট করে ও মানব বংশ ধবংস করে।এ রকম সীমাহীন কাজ বা সীমালংঘন করলে আল্লাহ তাদেরকে অন্য একটি দল দিয়ে দমন করেন।এখানে ভারসাম্য সুপ্রতিষ্ঠিত করেন।কারণ এভাবে একটি দল যুগের পর যুগ থাকলে মহাবিপর্যয় নেমে আসে।আল্লাহ বলেন,এভাবে আল্লাহ যদি মানুষের একটি দলকে আর একটা দল দিয়ে দমন না করতে না থাকতেন তাহলে দুনিয়ার শৃংখলা নষ্ট হয়ে যেত।কিন্তু দুনিয়ার মানুষের উপর আল্লাহর বড়ই দয়া।(তিনি এভাবে ফিতনা ফাসাদ বিপর্যয় দমন করার ব্যবস্থা করতে থাকেন।) বাকারা-২৫১

এখানে ক্ষমতাবান জালুত কে হত্যা করে দাউদ(আঃ) এর ক্ষমতায় আরোহণের এবং তিনি ইসরাইলিদের শাসক হয়ে রাষ্ট্রে শৃংখলা প্রতিষ্ঠার কথা বলা হয়েছে।
আল কুর আনে এ রকম অনেক জাতিগোষ্ঠীর কথস বর্নণা করা হয়েছে যাদেরকে ইতোপূর্বে ধবংস করা হয়েছে।

অথচ তারা সে সময় তাদের যুগে উন্নত, শ্রেষ্টত্বের অধিকারী, ক্ষমতা, প্রতিভাধর ও প্রভাব বিস্তারকারী জাতিগোষ্ঠী ছিল।কিন্তু শৃংখলা ও ব্যবস্থাপনা রক্ষায় তাদের সভ্যতা ও সংস্কৃতিকে বিলুপ্ত করা হয়েছে।উন্নত থেকে অবনত করা হয়েছে।তাদেরকে খন্ড খন্ড করে বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর মাঝে বিলীন করে দেয়া হয়েছে।তাদেরকে পুরোপুরি খতম না করলেও তাদের সভ্যতাকে শেষ করে দেয়া হত।

এই নিয়মেই প্রায় ৫০০০ বছর আগে ঐতিহাসিক প্রাচীন ট্রয় নগরী ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়,আদ জাতির মত স্মরণকালের সবচেয়ে শক্তিধর, ক্ষমতাধর জাতি ধবংস হয়,ইরাম নগরীর মত পৃথিবীর সুউচ্চ স্থাপনা সম্বলিত নগর সভ্যতা ধ্বংস হয়।এই একই নিয়মে জালিম নমরুদ কে পরাজিত করে ইব্রাহিম (আঃ) শান্তির সমাজ গড়ে তোলেন,দাম্ভিক ফেরাউন ও তার দলবল ধবংস হলে মুসা (আঃ) বনী ইসরাইল জাতিকে উদ্ধার করেন।ইউসুফ (আঃ) ক্ষমতাশালী হয়ে জাতিকে দুর্ভিক্ষের করাল গ্রাস থেকে মুক্ত করেন।এই নিয়মেই হামান,শাদ্দাদ,কারুনরা ধবংস হয় এবং ফেরাউনের মত খোদায়ী দাবীদার অসুর শক্তিগুলোরও পতন হয়।সেই একই নিয়মেই এখনকার পৃথিবী চলতে বাধ্য।ব্যতিক্রম হবে না।হওয়ার কথাও নয়।

বর্তমান বিশব পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্য সংকট, চীন – আমেরিকার বাণিজ্য যুদ্ধ পরবর্তী করোনা সংকট ও ইহুদীদের বৃহত্তর ইসরাইল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা বিশ্ববাসী কে কি বার্তা দিচ্ছে।চলমান করোনাভাইরাস Covid-19 সত্যিকার অর্থে কি?এর মধ্য দিয়ে বিশব কি
আরেকটি যুদ্ধের দিকে ধাবিত হচ্ছে না যুদ্ধ চলমান এটা বুঝা বড় দায়?

করোনাভাইরাস কি আসলেই জৈব মারণাস্ত্র?
গবেষণাগারে চাষ কিংবা প্রস্তুত কোন রোগ সৃষ্টিকারী বস্তু কি না?
আমেরিকান চাইনিজ নাগরিক হার্ভার্ড ও বোস্টন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর রা কি আসলেই জড়িত?
প্রফেসর ডঃ চার্লস কি আসলেই করোনাভাইরাস এর আবিষ্কারক?
প্রায় দুই মাস পর আটক।সাজানো কোন নাটক নয় তো?
চীন-আমেরিকার বাণিজ্য যুদ্ধের ফল কি চলমান সংকট?
এফ বি আই এর জোরেশোরে তদন্ত?
তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হয়ে গেল কি না?
ইসরাইল ও তার মোসাদের কোন ভুমিকা আছে কি?

না প্রাকৃতিক ভাইরাস?আসমানি বালা মুসিবত?
মহান রাব্বুল আলামিন সৃষ্টির অনিষ্ট থেকে আশ্রয় চাইতে বলেছেন।এই সৃষ্টি মানুষ হতে পারে,জিন হতে পারে,জীব-জানোয়ার হতে পারে।বিজ্ঞানের কোন আবিষ্কার ও হতে পারে।রোগ ব্যাধিও আল্লাহর সৃষ্টি।আমরা মানব জাতিও।
ইতিহাসে ভাইরাসের মত অকোষীয় জীব দ্বারা অনেক মহামারি সংঘটিত হয়েছে।আল্লাহর বিরুদ্ধাচরণ ব্যাক্তিবর্গদের বিভিন্ন ক্ষুদ্র প্রাণী (মশা, আবাবিল)দ্বারা ধবংস করার নজির আছে।

covid-19 করোনাভাইরাস কি তা আল্লাহই ভাল জানেন।তবে এ সংকট, এ মহামারী বিশববিপর্যয় ঘটাচ্ছে।আর এ সব কিছু মানুষের হাতের কামাই।কৃতকর্মের ফসল।

মানুষের নিজ হাতের কামাইয়ের ফলেই জলে ও স্থলে ফাসাদ ছড়িয়ে পড়েছে,যা দ্বারা তাদের কিছু আমলের সবাদ ভোগ করাতে চান।হয়ত তারা ফিরে আসবে।সুরা রুম -৪১
এখানে খৃস্ট্রীয় সপ্তম শতকের গোড়ার দিকে ততকালীন বিশবএর দুই পরাশক্তি রোমান ও পারস্য সাম্রাজ্যের দীর্ঘ ২৮ বছর ব্যাপী মহাযুদ্ধের কথা বলা হয়েছে।

আল্লাহ বলেন,তোমাদের উপর যে মুসিবতই এসেছে তা তোমাদের দু’হাতের কামাইর কারণেই এসেছে।অবশ্য তিনি বহু গুনাহ এমনিতেই মাফ করে দেন।সুরা শুরা -৩০
এখানে মক্কা শহরের দুর্ভিক্ষের কথা বলা হয়েছে।

আল্লাহ বলেন,আমি অবশ্যই তোমাদেরকে ভয়-বিপদ,ক্ষুধা(অনাহার, দুর্ভিক্ষ),জান ও মালের ক্ষতি(মৃত্যু,সম্পদহানি) ও ফসলের(আয়-উপার্জন কমিয়ে) ক্ষতি দিয়ে পরীক্ষা করব।
কোন বিপদ মুসিবতই আল্লাহর অনুমোদন ছাড়া আসে না।মানুষের কামাই কিংবা কৃতকর্ম বা জুলুমের কারণে যদি আল্লাহ শাস্তি দিতেন তাহলে পৃথিবীতে তিনি কোন প্রাণী কে ছেড়ে দিতেন না।অর্থাৎ কোন জীবই বেচে থাকত না।তবে সীমালঙ্ঘন,আল্লাহর অবাধ্যতা এবং জুলুম পাপাচারের কারণে আল্লাহ অনেক মানবগোষ্ঠী কে এর আগে ধবংস করেছেন।আল কুর আনে তার ইংগিত পাওয়া যায়।

মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর হাদিস থেকে জানা যায়,আল্লাহর অবাধ্যতা ,সীমালঙ্ঘন, জুলুম ও পাপাচার-অশ্লীলতা যখন ছড়িয়ে তখন আজাব হিসেবে মহামারি আসে।এতে এমন রোগের প্রাদুর্ভাব ঘটে যা ইতোপূর্বে দেখা যায় নি।অজ্ঞাত অজানা এই রোগের কোন ঔষধও থাকে না।

বিপর্যয় কেন আসে? মানব জনপদে সীমালঙ্ঘন, জুলুম,সেচ্ছাচারীতা ও আল্লাহর অবাধ্যতার কারণে।
কখন আসে?যখন মানুষ আল্লাহকে ভুলে যায়,অশ্লীলতা ও পাপাচার(জিনা-ব্যভিচার)বেড়ে যায় এবং মজলুমরা জুলুমের শিকার হয়।
কিভাবে,কি রুপে আসে? ভয়,ক্ষুধা,মৃত্যু,ফসলের ক্ষতি,রোগ ব্যাধি,সামাজিক বিশৃংখলা,অবিচার আর ফাসাদ সৃষ্টি,মানব বংশ ধবংশ ইত্যাদি।
কি উদ্দেশ্যে আসে? অবাধ্য জাতি যাতে আল্লাহর দিকে ফিরে আসে।সামাজিক শৃংখলা ও ভারসাম্য প্রতিষ্ঠার জন্য জুলুমশাহীর পতন বা দমন।কাউকে ঈমানের পরীক্ষা,কারো গোনাহ মাফ বা কাউকে সতর্ক করতেও আসে।


হাদিস থেকে জানা যায় মহামারি আজাব হিসেবেই আসে।তবে মুমিন লোকদের জন্য আল্লাহ রহমতের সুবাতাস বইয়ে দেন।আল্লাহ ঈমানদারদের এভাবে পরীক্ষা করে থাকেন।তবে সামগ্রিক ভাবে ইহা একটি শাস্তি।যাতে মানুষ আল্লাহর দিকে আসে।

সারশূন্য ইউরোপীয় দর্শন ও মার্কিন সভ্যতাকে কেন্দ্র করে ইসরাইল বিশ্বনেতার পদ দখল করতে চায়।অপর দিকে আধুনিক বিশবের রুপকার চীন প্রযুক্তি ও অর্থনীতিক ভাবে সমগ্র দুনিয়ায় প্রভাব বিস্তার করে একক ভাবে বিশ্বকে শাসন করার দিবা স্বপ্ন দেখছে।
কিন্তু মার্কিন সভ্যতাকে ধবংস করা কি খুব সহজ।তবে ইতিহাস বলছে এ সভ্যতা পতন্মোখ।আমেরিকা আজ সমকামীতার মত জঘন্য আইন কে অনুমোদন করেছে।এই একটি মাত্র অপরাধেই লাল নীল সভ্যতা ধবংস হবে বলে অনেকেই মনে করেন।সডোম ও ঘোমরার জনপদের(আদ,সামুদ,লুত সম্প্রদায়) প্রভাবশালী অধিবাসী একই কারণেই পৃথিবী থেকে নিশ্চিহ্ন হয়েছিল।
আজকের পৃথিবীর রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও চলমান সংকট এবং ইহুদী, খ্রিস্টান ও মুসলমান ধর্ম মত অনুসারে আমরা কি সেই পৃথিবীর অপেক্ষা করছি যেখানে সভ্যতার যুদ্ধ হবে,দ্বন্দ্ব হবে য়াহুদাবাদ বনাম ইসলাম। সম্ভব এ ধরণী সেই দিকেই ধাবিত হচ্ছে।
খেয়াল করুন বর্তমান পৃথিবীর শাসকেরা বস্তুগত ও প্রযুক্তিগত উন্নয়নের দিকে নজর দিলেও মন কিংবা আত্মার উন্নয়নে দৃষ্টি দেন নি।আর আত্মিক উন্নয়ন করতে পারে একমাত্র ইসলাম।তাই তো মহাত্না গান্ধী বলেছেন,ইসলাম হচ্ছে তা যা স্পেন কে সুসভ্য করেছে,মরক্কোতে আলোর মিশন নিয়ে গেছে এবং পৃথিবীতে সৌভ্রাতৃত্ববোধ দৃঢ়ভাবে প্রচার করেছে।
সুতরাং আজকের ভয়াল,নিকশ বিশ্বসভ্যতার মরণ পদযাত্রায় টেকসই নতুন পৃথিবী ও নতুন সভ্যতা একমাত্র ইসলামই গড়তে পারে।

আরো পড়ুন,

লেখকঃসাংবাদিক , সেক্রেটারি, সিলেট অনলাইন প্রেসক্লাব।

শেয়ার করুণঃ