উপজেলা কমিটি দিয়ে সাংগঠনিক যাত্রা শুরু জেলা আ.লীগের

0

স্টাফ রিপোর্টঃ উপজেলা কমিটি দিয়ে সাংগঠনিক যাত্রা শুরু জেলা আ.লীগের
নতুন কমিটি ঘোষণার মধ্য দিয়ে সাংগঠনিক কার্যক্রমে যাত্রা শুরু করলো সিলেট জেলা আওয়ামী লীগ। মঙ্গলবার সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের নাম ঘোষণা করার মধ্য দিয়ে সাংগঠনিক কর্মসূচী শুরু করে জেলা আওয়ামী লীগ। কেন্দ্রের নির্দেশক্রমে এই কমিটিকে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে বলে সিলেট প্রতিদিনকে জানিয়েছেন জেলা সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট নাসির উদ্দিন।

তিনি বলেন, দলীয় কর্মসূচী চলছে যথারীতি। কিন্তু সাংগঠনিকভাবে এই প্রথম গোলপগঞ্জের কমিটি অনুমোদন করার মধ্য দিয়ে সাংগঠনিক অবস্থার জানান দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, দলীয় প্রধান বারবার দলকে গোছানোর মাধ্যমে সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদার করার নির্দেশ দিয়েছেন। সেই সাথে দলে, কোনো রকম অপরাধী, যুদ্ধাপরাধী কিংবা তাদের স্বজনদের যেনো ঠাঁই না হয়- সে ব্যাপারে কড়া নির্দেশ রয়েছে। সিলেট জেলা কমিটি শুরু থেকেই নেত্রীর নির্দেশকে মাথায় রেখে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। তাছাড়া, কমিটিতে যুক্ত হয়ে যে কেউ দলের নাম ভাঙ্গিয়ে দুর্নীতির মাধ্যমে নিজেদের পকেটভারী করতে না পারে , সেদিকেও জেলা কমিটি দৃষ্টি রাখবে। দলকে কালিমামৃুক্ত করার মধ্য দিয়ে তৃণমূলে সংগঠনকে আরো গ্রহণযোগ্য করে তোলা হবে।

এ ব্যাপারে জেলা সভাপতি ও সিলেট জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এডভোকেট লুৎফুর রহমান বলেন, গোলাপগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন নিয়ে ঝামেলা সৃষ্টি হয়েছিল। বিষয়টি নেত্রীর দৃষ্টিগোচর হলে তিনি সেই ব্যাপারে সাংগঠনিক নির্দেশনা দেন। নেত্রীর নির্দেশক্রমেই জেলা কমিটি ঘোষিত কমিটিকে অনুমোদন প্রদান করে সাংগঠনিক কাজ শুরু করে।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ বাংলাদেশের প্রাচীন একটি বৃহৎ দল। এই দলের কোনো গ্রুপ নেই এবং থাকার কথা নয়। সুতরাং সকল বিভাজন ভুলে গিয়ে দলীয় প্রধান শেখ হাসিনার নির্দেশ মেনেই নেতাকর্মীদের আগামীতে কাজ করতে হবে। সেই সাথে আওয়ামী লীগ সরকারের উন্নয়ন কর্মকান্ড পৌছে দিতে হবে তৃণমূল পর্যায়ে।

উল্লেখ্য, গত ১৩ নভেম্বর বুধবার গোলাপগঞ্জ আওয়ামী লীগের তৃণমূলের নেতাকর্মীদের জন্য কাঙ্খিত সম্মেলন সমাপ্ত হয়েছে বিশৃঙ্খলার মধ্য দিয়ে। দীর্ঘ ১৬ বছর পর এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হলেও এইদিন নেতৃত্ব নির্ধারণ করা হয়নি। সম্মেলনের দ্বিতীয় অধিবেশনে সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদক পদের নেতৃত্ব নির্ধারণে কেন্দ্র ও জেলার নেতারা সমঝোতার প্রস্তাব দিলে বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠেন উপজেলার কাউন্সিলররা। কাউন্সিলররা ভোটের মাধ্যমে নেতৃত্ব নির্ধারণের জন্য শ্লোগানের মাধ্যমে কেন্দ্র এবং নেতাদের আহবান জানান। এ নিয়ে বিশৃঙ্খল পরিবেশের সৃষ্টি হলে নেতৃত্ব নির্ধারণ না করেই সম্মেলনস্থল থেকে কেন্দ্রীয় নেতারা বের হয়ে আসেন। পরে বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা উপজেলা চৌমুহনী চত্বরে বিক্ষোভ, সমাবেশ ও সড়ক অবরোধ করে রাখেন। এরপর আর গোলাপগঞ্জ উপজেলা কমিটি দেওয়া সম্ভব হয়নি।