প্রস্তাবিত কামরান চত্ত্বর ও প্রসঙ্গ কথা

0
প্রস্তাবিত '' কামরান চত্ত্বর '' ও প্রসঙ্গ কথা।
প্রস্তাবিত '' কামরান চত্ত্বর '' ও প্রসঙ্গ কথা।

মামুন আব্দুল্লাহ : মহামারী করোনায় এ মাসেই চলে গেলেন জাতীয় রাজনীতির তিন নেতা।সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের বর্ষিয়ান নেতা মোহাম্মদ নাসিম এই মাসের ১৩ তারিখ এ পৃথিবীর মায়া ছেড়ে পরপারে পারি জমান। ওই দিন রাতেই মারা যান ধর্মমন্ত্রী শেখ আব্দুল্লাহ।সেই শোক কাটতে না কাটতেই জাতি হারালো আরেক মানবদরদী জননেতাকে।১৬ জুন মহামারী করোনায় আক্রান্ত হয়ে সিলেটবাসীকে কাঁদিয়ে চলে গেলেন জনতার কামরান।সিলেট সিটি কর্পোরেশন এর সাবেক মেয়র বদর উদ্দিন আহমদ কামরান।

কামরান শুধু আওয়ামী লীগ এর ছিলেন না। তিনি ছিলেন জনতার! কামরানকে যারা চিনেন তারা এ ব্যাপারে দ্বিমত করবেন না।সকলে এক বাক্যে স্বীকার করবেন যে আসলেই কামরান কোন দলের ছিলেন না। হয়ত তিনি একটা দল করতেন বলে তাকে আমরা একটা দলের ভিতর ব্রাকেট বন্দী করে ফেলি।

কামরান চলে যাওয়ার পর সর্ব মহলেই কামরানকে নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। বিশেষ করে তাঁর কীর্তি নিয়ে। সেই আলোচনার ঢেউ সুরমার তীর থেকে টেমসের তীরে গিয়ে আছড়ে পড়ছে।কার সাথে কী স্মৃতি ছিল ,তিনি কী কী ভাল কাজ করেছেন ‍সেই সব!

তেমনি একটা অনলাইন আলোচনার আয়োজন করছিলেন সিলেটের এক সাংবাদিক । অতিথী ছিলেন বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. আব্দুল মোমিন এবং সিলেট সিটি কর্পোরেশন এর মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী।সেই আলোচনায়ই মেয়র আরিফ সাবেক মেয়র মরহুম কামরানের স্মৃতি ধরে রাখতে সিটি ভবনের সামনের চত্ত্বরকে ’’কামরান চত্ত্বর” করার ঘোষণা দেন।তারপর থেকে ’’কামরান চত্ত্বর” করার দাবী আসতে থাকে বিভিন্ন ফোরাম থেকে।

সিলেটে রাজনৈতিক সহনশীলতার সুনাম রয়েছে সারা দেশে জনগনের মুখে মুখে ।এটা ঠিক , আমরা সিলেটবাসী মরহুম হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী, এম সাইফুর রহমান কাউকে দলীয় গন্ডীর মধ্যে রাখিনি। রাজনৈতিক সহনশীলতার বহু নজির রয়েছে সিলেটে।

আজ যে ’’কামরান চত্ত্বর” করার দাবী আসছে সেটা যৌক্তিক।কিন্ত এম. সাইফুর রহমানকে উপেক্ষিত রেখে কেন? যখন কাজীর বাজার ব্রিজ উদ্ভোধন করা হয় তখন জনগনের একটা দাবী ছিল যে, এম সাইফুর রহমানের স্মৃতি ধরে রাখতে সেতুটির নামকরণ সাইফুর রহমানের নামে করতে।কিন্ত দলীয় সংকীণর্তার পরীক্ষায় আমরা পাশ করতে পারিনি।যে সংকীণর্তার পরীক্ষায় পাশ করেছিলেন এম. সাইফুর রহমান।

সিলেট প্রবেশের সময় একটা স্কয়ার বা চত্ত্বর দেশবাসীকে স্বাগত জানায়।এটার স্বপ্ন দেখেছিলেন হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী!কিন্তু তিনি বাস্তবায়ন করে যেতে পারেনি।

পরবরতীতে  সাইফুর রহমান এটা নির্মান করেন।দলীয় সংকীর্ণতার উধ্বে উঠে এটার নাম দেন ’’হুমায়ুন রশীদ চত্ত্বর’’। এটা শুধু একটা চত্ত্বর না, এটা আকাশের মত মনের প্রতীক।

সেই সাইফুর রহমানকে ‍সিলেটবাসী উপেক্ষিত রেখেছে। এমনকি তাঁর নামে প্রতিষ্ঠিত এম. সাইফুর রহমান অডিটরিয়াম এর নাম পরিবর্তন করে ‍সিলেট অডিটরিয়াম করে পরবর্তীতে কাজী নজরুল ইসলাম অডিটরিয়াম করা হয়।

আমরা চাই বদর উদ্দিন আহমদকে এভাবে উপেক্ষিত না রাখতে।তবে অবশ্যই অন্যদের উপেক্ষিত রেখে নয়।

লেখক: ব্যাংক কর্মী

শেয়ার করুনঃ